০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ইং (দেশপ্রেম রিপোর্ট): দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকা প্রকাশ সংক্রান্ত মামলা থেকে পত্রিকাটির সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ও প্রকাশক রাগীব আলী ও সম্পাদক আব্দুল হাইকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। সিলেটের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালত-এর বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন এই আদেশ দেন। ওই মামলায় ২০১৭ সালের ৯ই মার্চ দৈনিক সিলেটের ডাক-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি রাগীব আলী ও পত্রিকার সম্পাদক তার ছেলে আব্দুল হাইকে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। আসামি পক্ষ সাজা ও দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, ভূমি সংক্রান্ত দুটি মামলায় ২০১৬ সালের ১০ই আগস্ট সিলেটের আদালত রাগীব আলী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই সময়ে চিকিৎসা নিতে ভারতে যান রাগীব আলী ও আব্দুল হাই। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থানকালে রাগীব আলী ও তার ছেলে ‘দৈনিক সিলেটের ডাক’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। পত্রিকায় রাগীব আলীর নাম প্রকাশক ও তার ছেলে আব্দুল হাইয়ের নাম সম্পাদক হিসেবে ছাপা হয়।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত হওয়ার পর বিদেশে থাকাবস্থায় পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করে প্রকাশক রাগীব আলী ও সম্পাদক আব্দুল হাই পাঠকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন এমন অভিযোগে ২০১৬ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর নগরীর উপ-শহরের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন তালুকদার আদালতে একটি মামলা করেন। পরের বছরের ৯ই মার্চ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন রাগীব আলী ও আব্দুল হাই। পত্রিকা প্রকাশ সংক্রান্ত মামলাসহ তিনটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ২০১৭ সালের ২৯শে অক্টোবর কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন রাগীব আলী ও আব্দুল হাই। এরপর রায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন আসামিপক্ষ। বুধবার ওই মামলায় আসামি শিল্পপতি রাগীব আলী ও আব্দুল হাইকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন স্পেশাল পিপি মো. নওশাদ আহমদ চৌধুরী এবং আসামি পক্ষে ছিলেন এডভোকেট মঈনুল ইসলাম। ২০১৭ সালের ১৮ই জুন পত্রিকা প্রকাশ সংক্রান্ত মামলা দায়েরের আগেই শিল্পপতি রাগীব আলী সাজাপ্রাপ্ত অভিযোগ এনে এক দুষ্কৃতকারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার মালিকানাধীন পত্রিকা ‘দৈনিক সিলেটের ডাক’-এর প্রকাশনার অনুমোদন বাতিল করে দেন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার। ৩৩ বছরের পুরনো পত্রিকাটি ৩২৫তম সংখ্যা প্রকাশ করে তখন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১৭ সালের ২৯শে নভেম্বর বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পত্রিকাটি প্রকাশে কোনো বাধা নেই বলে আদেশ দেন।
Leave a Reply